পুলিশের মানবিকতা এবং সম্মুখসারির যোদ্ধা সাংবাদিক

এম নজরুল ইসলাম নয়ন দয়া :: করোনার সম্মুখযোদ্ধা চিকিৎসক, পুলিশ ও সাংবাদিক। দেশজুড়ে করোনা কেড়ে নিয়েছে অনেক পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক ও সাংবাদিকের প্রাণ। তবুও পরিবার এবং নিজের জীবনের মায়া না করে মাঠে রয়েছেন তাঁরা। করোনার সংকটময় সময়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। খাদ্য উপহার এবং আর্থিক অনুদান দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। করোনা আক্রান্ত সাংবাদিকদের মনোবল চাঙ্গা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে সাহস দিচ্ছেন সহকর্মীরা। ফল হাতে হাজির হচ্ছেন বাড়িতে, নিয়মিত খোঁজ রাখছেন সহকর্মীর। প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা প্রমাণ করেছে তারা কতটুকু মানবিক।

বলছি, বগুড়া জেলা পুলিশ এবং বগুড়া প্রেসক্লাব এর কথা। বগুড়ার পত্রিকা দৈনিক করতোয়া’র বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা সহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সক্রিয় কয়েকজন সংবাদকর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক করোনাযুদ্ধে জয়ী হয়ে কর্মেও ফিরেছেন। মনোবল অটুট রেখে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছেন করোনার সম্মুখযোদ্ধারা। সাংবাদিক আব্দুস সালাম বাবু’র সাথে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, একা একা থেকেও আমার মনে হয়েছে সবাই তো আমার সঙ্গে আছেন। আর এই বোধটাই আসলে মনের জোর সবচেয়ে বেশি বাড়ায়।

যে কথা বলার ছিল, করোনায় আক্রান্ত গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। ‘এখানে প্রশ্ন আছে সুরক্ষা নিশ্চিত নিয়ে’।

আমি মনে করি- কেউ যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সুচিকিৎসার জন্য একটি নির্দিষ্ট কোটা মেইনটেইন করা উচিত। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম মালিকদের পাাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিকদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল ঠিক করা উচিত। গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্র কীভাবে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে সে বিষয়ে গণমাধ্যমগুলো সহায়ক ভুমিকা হিসেবে কাজ করছে। অতএব গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়ে রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সাইফুল আলম সম্প্রতি যে কথাগুলো বলেছেন, সব কথাগুলো হৃদয় থেকে ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন, করোনার সংকটময় পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকর্মীরা যেহেতু করোনা যুদ্ধের সম্মুখসারির যোদ্ধা। গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন থেকে পিছিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাইরে আরও বড় একটি সংকটের জায়গা হলো অর্থনৈতিক সংকট। যা গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এখানেও আমরা নিশ্চয়তা চাই।

করোনাযুদ্ধে জয়ী হওয়ার এই অভিজ্ঞতা কিন্তু বিরল। এই যুদ্ধ অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে। এই যুদ্ধের ট্রেনিং নেই পুলিশেরও। তবুও করোনা সংক্রমণ রোধে যুদ্ধে নেমেছে পুলিশ সদস্যরা। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মানুষকে সচেতন করা এবং ঘরে রাখার প্রচেষ্টা করছেন। সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি চিকিৎসক ও সাংবাদিকরাও সক্রিয় রয়েছেন।

কোভিড-১৯। এ এমন এক শত্রু, যাকে দেখা যায় না, আচরণ বোঝা যায় না, এর পরের চালটিও জানা যায় না। এই যুদ্ধে একাও জয়ী হওয়া যায় না। প্রয়োজন হয় সবার ভালোবাসা, মনোবল, সহযোগিতা ও জরুরি চিকিৎসা। সাংবাদিক হিসেবে সব সময় অন্যের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে খবর লিখে আজ বাস্তব অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন সংবাদকর্মীরা।

সাহস আর উৎসাহ দিতে সেই ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি ইতিবাচক হও, ‘বি পজেটিভ’। কিন্তু ত্রিশ বয়স পার হওয়ার পর ‘পজিটিভ’ কথাটা যে এতটা আতঙ্ক ছড়াবে, তা প্রথম বুঝিয়েছে করোনা নামের এই অদৃশ্য শত্রু। তবে আতঙ্ক ফেলে সচেতন এবং মনোবল থাকলেই মুক্তি মিলছে এই ভাইরাস থেকে। করোনাভাইরাসের আনুষ্ঠানিক নাম কোভিড-১৯। শুরু থেকেই শুনে আসছি আক্রান্ত হওয়া যাবে না। আর হয়ে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মনের জোর রাখা। অর্থাৎ ‘পজিটিভ’ হলেও ‘পজিটিভ’ থাকতে হবে। পেশায় সাংবাদিক। তাই শুরু থেকেই কোভিড-১৯-এর সব ধরনের দেশি ও বিদেশি সংবাদ ও বিশ্লেষণ দেখতে হয়েছে।

কোনো ভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, রাখতে হবে মনের জোর। আতঙ্ক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, আর মনের জোর রোগ ঠেকিয়ে রাখার কাজটি করতে পারে।

লেখার শুরুতে বলেছিলাম, করোনার সংকটময় সময়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বগুড়া জেলা পুলিশও প্রমাণ করেছে তারা কতটুকু মানবিক। মানুষকে ঘরে রাখার কৌশল হিসেবে ‘ঘরে থেকে অনলাইনে প্রতিযোগিতা’ সহ একাধিক ব্যতিক্রম কার্যক্রম করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম বার। করোনাকালে খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান সহ পুলিশের মানবিকতা প্রশংসা কুড়াচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন বা রেডজোন কার্যকর রাখা, সচেতনতা বৃদ্ধি, অপরাধ দমন এবং সামাজিক সহিংসতা বন্ধেও কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।

 

লেখক : এম নজরুল ইসলাম নয়ন দয়া
বার্তা সম্পাদক, আজকের তাজা খবর।
মোবাইল: ০১৭৭৪ ৬১৪৭১৯

https://tazakhobor.news

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন