জায়গা দখলে ভাড়াটে সন্ত্রাসী, ধোলাই খেল আ.লীগ নেতা

তাজা খবর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :: একদল ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে জায়গা দখল করতে গিয়ে জনতার হাতে ধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন মুক্তারিন জাহিদ সরকার নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় জায়গার মালিক সেকেন্দার আলীকে (৫০) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের সিংজানী সড়কে সন্ত্রাসী হামলা ও পাঁচপুকুরিয়া বাজারে জায়গা দখলের ঘটনা ঘটে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক মুক্তারিন সরকারকে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ডে ধরে পিটুনি দেয় জনতা।
ছুরিকাঘাতে আহত সেকেন্দার আলীর পরিবারের অভিযোগ, থানায় সালিশের পর বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে বেধরক মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে।

এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তারিন সরকার, দাদন ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও মনজু আলমকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত সেকেন্দার আলীকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়ে থানার ওসি শওকত কবির জানান, সেকেন্দার আলীকে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। সে কামুল্যা সরকারপাড়ার সাবেক ইউপি সদস্য মৃত শাহাদত আলীর ছেলে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তারিন সরকারের নেতৃত্বে সাইফুল ইসলাম ও মনজু আলম বগুড়া শহর থেকে একদল সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে সিংজানী পাঁচপুকুরিয়া বাজারে এসে দুইভাই সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নেয়। সন্ত্রাসীদের হাতে রাম’দা সহ ধারালো অস্ত্র দেখে বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে চলে যায়। প্রকাশ্য দিবালোকে কৃষক সেকেন্দার আলীর বাজারের জায়গা জোরপূর্বক দখল করে তিনটি টিনের ঘর স্থাপন করে সন্ত্রাসীরা।

বিষয়টি থানায় জানিয়ে সেকেন্দার বাড়ি ফিরছে, এই খবর পেয়ে পথিমধ্যে সিংজানী রাস্তায় সেকেন্দার আলীর ওপর হামলা করে বেধরক মারপিট এবং ছুরিকাঘাত করে। রাম’দার কোপ দেয়ার প্রাক্কালে রক্তাক্ত অবস্থায় দৌড়ে একটি বাড়িতে ঢুকে কৃষক সেকেন্দার আলী প্রাণে রক্ষা পায়। এসময় সেকেন্দার আলীর মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয়রা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, সিংজানী গ্রামে ৬৫ শতক জমির মালিকানা নিয়ে আহত সেকেন্দার আলীর সাথে বড়ভাই বুড়ইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১নং নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতি আজিজল হকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
সেকেন্দার দাবি করেন, জায়গাটি তাঁর কেনা। অন্যদিকে আজিজল বলছেন, এটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। এনিয়ে থানায় অভিযোগ হলে দু’পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র দাখিল করতে বলে পুলিশ। আজিজলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেকেন্দার আলীকে দফায় দফায় হুমকি দেয় আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তারিন সরকার। থানায় এসে সেকেন্দার আলীকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে মুক্তারিন। থানার মধ্যেই সেকেন্দার আলীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। পরে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।

বুড়ইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আলো বলেন, শহর থেকে ভাড়াটে সন্ত্রাসী এনে কৃষক সেকেন্দার আলীকে ছুরিকাঘাত ও মারধর করে জায়গা দখল এবং সেখানে তিনটি ঘর তুলেছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, জায়গা দখলের বিষয়টি শুনেছি। কেউ দলের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করলে এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন