টাঙ্গাইলে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত, প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

তাজা খবর, জেলা করেসপন্ডেন্ট :: বৃষ্টি আর উজানের ঢলে টাঙ্গাইলের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ঝিনাই ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি ২৮ সেন্টিমিটার এবং ঝিনাই নদীর পানি ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

টাঙ্গাইলে সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। টাঙ্গাইলে সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, গোপালপুর ও নাগরপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাকুয়া, হুগড়া, কাতুলী, মামুদনগর, ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা, অর্জুনা, গোবিন্দাসী, নিকরাইল, কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর, গোহালিয়াবাড়ি, সল্লা, দশকিয়া, গোপালপুর উপজেলার হেমনগর, নগদাশিমলা, ঝাউয়াইল ও নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ, ভাড়রা, মোকনা, পাকুটিয়া ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রাম সম্পূর্ণ ও শতাধিক গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা কবলিত ও চরাঞ্চলের মানুষ তাদের বাড়িঘর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ২০ হাজার পরিবার ইতিমধ্যে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যানরা জানান, নদীতে পানি বেড়ে নিম্ন ও চরাঞ্চলের মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়লেও সরকারি কোনো ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। নিজেরা ব্যক্তি উদ্যোগে অতি দরিদ্রদেরকে যতটা পারছেন সহযোগিতা করছেন।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ক্রমাগত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে টাঙ্গাইলের যমুনা, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা, ধলেশ্বরী ও ঝিনাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমলে তীব্র ভাঙন দেখা দিতে পারে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভাঙন রোধে পাউবো কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন