বিনামূল্যে রক্তের ব্যবস্থা করে এই সংবাদকর্মী

তাজা খবর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :: বগুড়ার নন্দীগ্রামে মুমূর্ষ রোগীর জন্য বিনামূল্যে রক্তের ব্যবস্থা করে সংবাদকর্মী মতিউর রহমান মুসা। এছাড়া দরিদ্র রোগীদের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা করেন এই যুবক। নিজ প্রচেষ্টায় করেছেন ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ক্লাব নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

উপজেলার তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী ও যুবকদের নিয়ে স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রোগীদের রক্তদান করে চলেছেন। সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য স্থানীয় সমাজ সেবা অফিসে কয়েকবছর ধরে ছোটাছুটি করেছেন। তবুও সংগঠনের বৈধতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বছরে দুটি ঈদে দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও ঈদ সামগ্রী দেয় মতিউর রহমান মুসার রক্তদান সংগঠন।

স্বেচ্ছাসেবীদের নিজ খরচে মানুষের পাশে থাকার এই প্রচেষ্টা উপজেলায় ব্যাপক আলোচিত। সংগঠনের সদস্যদের মনোবল ভেঙে দেয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তিরা একই নামে সংগঠন করার চেষ্টায় কয়েক দফায় ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

মুমূর্ষ রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন? কোথাও রক্তদাতা খুঁজে পাচ্ছেন না। কিংবা প্রয়োজনীয় রক্তের গ্রুপ মিলছে না। কোনোভাবে মতিউর রহমান মুসার মোবাইল নম্বরটি (০১৮৭৪০০৮৫৮৫) যদি সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে মনে করবেন বিনামূল্যে আপনার সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের বীরপলী গ্রামের মৃত হাজী খয়রাত আলী আকন্দের ছেলে মতিউর রহমান মুসা বর্তমানে কুন্দারহাট সাবেক পুলিশ ফাঁড়ির বাসায় বসবাস করেন। পেশায় একজন সংবাদকর্মী ও ব্যবসায়ী।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে মুসা জানায়, সংগঠন থেকে গত ২০১৪ সাল থেকে ৬ বছর ধরে ফোনে ফোনেই উপজেলার প্রায় ৩ হাজার, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১৫ শতাধিক, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, জয়পুরহাট ও রাজশাহী জেলার প্রায় ৪ শতাধিক মুমূর্ষ রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করেছেন। আজতক পর্যন্ত রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি বা সমাজ সেবকদের কোনো ধরণের সহায়তা পায়নি ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

নুরন্নবী, আবু হাসান, ফারুক, অমিত হাসান সহ ৫ জন নিয়ে ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ক্লাব নামে সংগঠন করেন মুসা। বর্তমানে সংগঠনের কমিটিতে ৪১ জন সদস্য রয়েছে। রক্তের অভাবে দরিদ্র কোনো মানুষের যেন মৃত্যু না হয় সেই মহতী চিন্তা থেকে মতিউর রহমান মুসার সংগঠনের সদস্যরা ছুটে গেছেন মুমূর্ষ রোগীর পাশে রক্তের সন্ধান নিয়ে। এ জন্য মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছে অফুরন্ত।

দরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে বিনামূল্যে রক্তদান কাজের অনুপ্রেরণা পান মুসা। তবে কষ্ট দেয় রক্তগ্রহণের ক্ষেত্রেও সামপ্রদায়িকতার বিভেদ।

মুসা বললেন, সম্প্রতি আমাদের একজন রক্তদাতা সদস্যের সাথে কথা বলে তাঁর নাম ও মোবাইল নম্বর সেই রক্ত গ্রহীতার স্বজনকে দেই। একটু পরেই জানানো হল, ভাই কিছু মনে করবেন না রক্তদাতা কি হিন্দু না মুসলমান। যাঁর রক্ত লাগবে তিনি পরহেজগার পরিবারের তো! গত ৬ বছরে রক্তদানের ক্ষেত্রে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু এই ধর্মীয় বিভেদটি দূর করা গেল না।

মুসা বলেন, আমাদের সংগঠনের রক্তদাতারা কেউ ব্লাড ক্যাম্পে রক্ত দেন না। মূলত মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে আমরা রক্ত দিয়ে থাকি। প্রয়োজন হলে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সেবার খরচ দেয়াও চেষ্টা করি। তবে ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ক্লাবে এখন পর্যন্ত রাজনৈতিক বা জনপ্রতিনিধিরা কোনোভাবেই সহযোগিতা করেনি। সংগঠনের বৈধতার জন্য সমাজ সেবা অফিসে অনেক ঘুরেছি। আমার স্বপ্ন, ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনার ক্লাব বৈধতা একদিন পাবেই। দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচেষ্টাও টিকে থাকবে।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আব্দুল মমিন বলেন, রক্তদান সংগঠনের পক্ষে কেউ যদি আবেদন করে তাহলে রেজিস্ট্রেশন কতৃপক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন