নন্দীগ্রামে করোনাকালে কলেজ ছাত্রের হাঁসের খামার

তাজা খবর, প্রতিনিধি :: বগুড়ার নন্দীগ্রামে করোনাকালে হাঁসের খামার করেছে এক কলেজছাত্র। বেকারত্বহীন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার স্বপ্ন। করোনার সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ঘরে বসে সময় কাটছিল না, পড়াশোনার পাশাপাশি হাঁসের খামার গড়ার উৎসাহ বাড়ে মনে মনে। করোনাকালেই রাস্তার পাশে গড়ে তুলেছে হাঁসের খামার। যা দেখে উৎসাহ পাচ্ছেন এলাকার বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার বিজরুল হাটখোলা পাড়ার রাসেল হোসেন (২১) মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। কাহালু সরকারি ডিগ্রি কলেজে পড়াশোনা করে। মা গৃহীনি আর বাবা আব্দুল মান্নান মালয়েশিয়া প্রবাসী। দুই ভাইয়ের মধ্যে রাসেল বড়। ছোটভাই রাকিব হোসেন কালিশ-পুনাইল ফাজিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। করোনাকালে ঘরে বেকার সময়ের মধ্যেই বিজরুলের করলাগাড়ী এলাকায় হাঁসের খামার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় কলেজছাত্র রাসেল। পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চান না।

এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে কলেজছাত্র জানায়, হাতখরচ থেকে অল্প অল্প করে জমানো ২৮ হাজার ৫শ টাকায় গত ১৩ মে কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর থেকে ১ হাজার ১০ টি খাঁকি ক্যাম্বেল জাতের হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করে। এরআগের দিন বাঁশ সহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে ২০ হাজার টাকা খরচ করে অস্থায়ী খামার ঘর নির্মাণ করে। বাচ্চা এনে খামারে রেখে পালন শুরু করে দুই মাসে হাঁসের খাবারের পেছনে খরচ হয়েছে ৩৭ হাজার ৯শ টাকা এবং ওষুধ বাবদ খরচ হয়েছে ১২ হাজার ২শ টাকা। গত ১৩ মে থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৫০ টি হাঁস মারা গেছে। তবে জমিতে কিটনাশক এবং খামারে গাদাগাদি হওয়ার কারণে মারা গেছে বলে জানানো হয়। হাঁস বিক্রি করে লাভবান এবং স্বাবলম্বী হবে আশাবাদি এই তরুণ।

রাসেল জানায়, আমি অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। করোনার সংকটময় সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাড়িতে ঘরবন্দি ছিলাম। ঘরে বসে খেতে নিজেকে পরিবারের বোঝা মনে হয়। বড় হয়েছি, তাই বোঝা হয়ে থাকতে চাইনা। নিজের খরচের জোগান নিজেই করতে চাই। পড়াশোনার ফাঁকেই বেকারত্বহীন ভবিষ্যৎ গড়তে চাই। বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে হাঁসের খামার দেখে উৎসাহ পেয়ে আমিও খামার গড়েছি। এলাকায় অনেক পতিত জমি এবং ফাঁকা মাঠ রয়েছে। আমি নিজেই হাঁসগুলো পালন করছি। রাতে খামারেই ঘুমাচ্ছি। হাঁসগুলো সকাল ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে ছেড়ে দেই। হাঁসের সাথে সাথে থাকি, পরিচর্যা করি। সন্তানদের প্রতি যেমন পিতা মাতার মায়া রয়েছে, আমার কাছে হাঁসও সন্তানদের মতো। মাঠ থেকে খামারে এনে যদি দেখি, একটি হাঁস আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, তখন যেন আমার হৃদয়ে আঘাত লাগে।

স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের উদ্দেশ্যে কলেজছাত্র রাসেল হোসেন বলেন, বিজরুল এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের পরিবারগুলোও কৃষিজীবী। অনেক সময়ই সন্তানদের পড়াশোনার বাড়তি খরচ জোগাতে অভিভাবকদের হিমশিম খেতে হয়। অন্যদিকে পড়ালেখা শেষ করে চাকরি পাবেন, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে নিজেরা কিছু একটা করার কথা ভাবেন।

বিজরুল গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, গ্রামের ছেলের এই উদ্যোগ সত্যিই মন থেকে ভালো লেগেছে। পড়ালেখার ফাঁকে সময় নষ্ট না করে খুব ভালো একটা কাজ করছে। স্থানীয় যুবক ও তরুণরা উৎসাহ পাচ্ছে। রাসেল সফল হলে ভালো লাগবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন