ঘরে খাবারই নেই, ঈদে সন্তানদের নতুন পোশাক পাব কোথায়?

তাজা খবর, প্রতিনিধি :: বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৌর শহরের ওমরপুর এলাকার ভূমিহীন ৪০ জেলে পরিবারের মানুষগুলোর অসহায় দিন কাটছে। ঈদ আসে বছর ঘুরে, কিন্তু তাদের ভাগ্যে জোটেনি নিরাপদ সরকারি খাস জমি! ভূমিহীন, দুর্দশাগ্রস্ত ও ছিন্নমূল মানুষেরা পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছেন বছরের পর বছর। এদিকে করোনাকালে কর্ম নেই, ঘরে খাবারও নেই। হাট-বাজারে ক্রেতা কম থাকায় মাছের চাহিদা খুবই কম। করোনাকালে মাছ ব্যবসায়ীরাও গুনছেন লোকসান।

বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের পাশে বাস করা পরিবারগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কুঁড়েঘরে বাস-ট্রাক ঢুকে প্রাণহানির শঙ্কায় তাদের আচমকা রাত কাটছে প্রতিনিয়ত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গায় কুঁড়েঘর।

প্রাপ্ততথ্যে জানা গেছে, ওমরপুর মহাসড়কের পাশে প্রায় তিনশ নিঃস জেলে পরিবার বসবাস করতেন। এরমধ্যে মাছের ব্যবসা সহ বিভিন্ন কর্মের মাধ্যমে অনেকেই গ্রামের মধ্যে জায়গা কিনে বাড়িঘর করে বসবাস করছেন। গত ৮ মে মধ্যরাতে বালুবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পড়ে মহাসড়কের পাশে কুঁড়েঘরের ওপর। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন ঘুমন্ত মা ও মেয়ে। বর্তমানে মহাসড়কের পাশে প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে ৪০ জেলে পরিবার বসবাস করছে। বৃদ্ধ বয়সে কেউ করছেন মাছের ব্যবসা, যুবকরা জাল টেনে মাছ ধরার কাজ করে। ভিক্ষাবৃত্তির টাকায় কয়েকজন নারীর পেটে ভাত জোটে।

বছর ঘুরে আসে ঈদ, ধর্মীয় উৎসবে জেলে পরিবারের শিশুদের নতুন পোশাক যেন দিবাস্বপ্ন। ভোটের সময় এলে স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজতক পর্যন্ত সুফল পাননি বলছেন জেলে পরিবারগুলো। উপজেলা প্রশাসনের কাছে গিয়েও ঘুরছেন তারা। অসহায় পরিবারগুলোকে আর্থিক সহ বিভিন্নভাবে দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা করছেন স্থানীয় সমাজ সেবক ফেরদৌস আলম।

‘আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা কেউ ভাবেনি’

সরেজমিনে ওমরপুরে সংবাদকর্মীদের দেখেই মহাসড়কের পাশে বাস করা নারী-পুরুষেরা কাছে এসে দুঃখের কথা বলতে থাকেন।

জেলে পরিবারের জহুরা, শাপলা, মতিজান, সহিদা, জরিনা, ছালেকা আবেগাপ্লুত কন্ঠে বলেন, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে যা পাই সেই টাকায় পেটে ভাত জোটে। করোনার সময় ঝুঁকি নিয়ে ঘরের বাইরে গেলেও রাস্তায়-বাজারে মানুষ অনেক কম। সামনে ঈদ, ঘরে খাবারই নেই, সন্তানদের নতুন পোশাক পাব কোথায়? নিরাপদ ঘর নেই, মহাসড়কের পাশে থাকি। কখন যেন ঘরের ভেতর বাস-ট্রাক ঢুকে প্রাণ কেড়ে নেয়, এই কথা ভাবলে চোখে ঘুম আসেনা। এলাকার ফেরদৌস ভাই টাকা-চাল দিয়ে মাঝেমধ্যে সাহায্য করে। অনেক এমপি, চেয়ারম্যান, মেয়র, জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হয়। কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের কথা কেউ ভাবেনি।

জেলে হবিবর, রফিকুল, নুরুল, তছির ও আবু বক্কার বলেন, আমরা পুকুর থেকে জাল টেনে মাছ ধরার কাজ করি। কাজ না থাকলে আড়ৎ থেকে মাছ কিনে এনে হাট-বাজারে বিক্রি করি। চলমান করোনাকালে হাট-বাজারে ক্রেতা কম, মাছ বিক্রি আগের মতো আর নেই। হাটে মাছ নিয়ে গেলে অর্ধেক মাছ ফিরে আনতে হয়। মাছ পঁচে নষ্ট হচ্ছে, লোকসান আর লোকসান।

জেলেরা বলেন, আমাদের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দিন। সড়কের পাশে আমরা ৪০ জেলে পরিবার মৃত্যুমুখে থাকি। কুঁড়েঘরে ট্রাক ঢুকে দুইজন মারা গেছে। আমরা নিরাপদ ঘর চাই, থাকার জায়গা চাই। করোনাকালে সরকারি সহায়তা চাই।

স্থানীয় সমাজ সেবক ফেরদৌস আলম জানান, করোনাকালে জেলে পরিবারগুলো অসহায় দিন কাটাচ্ছে। সম্প্রতি খাদ্য সামগ্রী দিয়ে তাদের সহায়তা করেন জেলা পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন রানা। আমিও অসহায়দের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। জেলে পরিবারগুলোর পুনর্বাসন করা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. শারমিন আখতার বলেন, প্রথমতো তারা আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাস করতে চায় না। আবার থাকার মতো আবাসন করে দিতে চাইলে সেখানে থাকতে চায়না। তারা যদি থাকতে চায়। তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে। আমরা তাদের থাকার মতো আবাসন করে দিবো।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন