যৌন উত্তেজক ওষুধ ছাড়া ফার্মেসী চলে না? খাবারের দোকানেও কীটনাশক

তাজা খবর করেসপন্ডেন্ট :: বগুড়ার নন্দীগ্রামে গ্রাম পর্যায়ে অর্ধশতাধিক অনুমোদনহীন ফার্মেসী গড়ে উঠেছে। সেগুলোতে জ্বর, সর্দি, কাশি এবং ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের অনুমান করে দেওয়া হয় বিভিন্ন ওষুধ। ড্রাগের লাইসেন্স ছাড়াই ফার্মেসী ও হাতুরে ডাক্তারদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। ফার্মেসীগুলোতে মিলছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ।

অন্যদিকে একই দোকানে খাবার সামগ্রীর পাশাপাশি বিক্রয় হচ্ছে কীটনাশক। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

তবে স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা বলছেন, অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের পেংহাজারকি কালানী বাজার, ভাটরা ইউনিয়নের আঞ্জুতলা বাজার ও থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশো বাজার সহ বিভিন্ন গ্রামে অনুমোদনহীন অর্ধশতাধিক ফার্মেসী দেখা গেছে। এসময় দোকানিরা ড্রাগের লাইসেন্স দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনুমোদনহীন ফার্মেসীগুলোতে বিভিন্ন কোম্পানীর লোকজন ওষুধ সরবরাহ করছে। প্রায় প্রতিটি দোকানেই যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ দেখা গেছে।

বাজার ও গ্রামগুলোতে মুদি দোকানে খাবার সামগ্রীর পাশাপাশি কীটনাশক, সার, গবাদিপশুর ওষুধ, মাছ ও পশুর খাদ্য বিক্রির যেন হিড়িক পড়েছে।

লাইসেন্স ছাড়াই মুদি দোকানে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, ব্যাটারির পানি ও মবিল বিক্রয় করা হচ্ছে। সেদিকে প্রশাসনের নজর নেই বললেই চলে।

ফলে নিরাপদ খাদ্য পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষেরা।

পেংহাজারকি কালানী বাজারের মুদি দোকানি আব্দুল মান্নান একাধিক প্রশ্নের জবাবে খাবার সামগ্রীর পাশাপাশি কীটনাশক বিক্রির বিষয়ে বলেন, কৃষি অফিস থেকে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি। আমার ব্যবসা বৈধ।

কালানী বাজারে মুকুল হোসেন, মজনু মিয়াসহ তিনটি অবৈধ ফার্মেসীতে সরেজমিনে গিয়ে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও সিরাপ দেখা গেছে।

এসময় অসাধু ব্যবসায়ী মুকুল বলেন, ম্যানেজ করেই ব্যবসা করছি। ব্যবসা করতে হলে যৌন উত্তেজক ওষুধ দোকানে রাখতে হয়।

আঞ্জুতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র।

গ্রাম পর্যায়ে বেশকিছু দোকানে সরকারি ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাসহ অবৈধ ফার্মেসী ও দোকানিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আদনান বাবু মুঠোফোনেতাজাখবরকে বলেন, আমাদের মনিটরিং অব্যহত রয়েছে। লাইসেন্স নিয়ে বিধিমালার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ যদি খাবার সামগ্রীর দোকানে কীটনাশক বিক্রয় করে সরেজমিনে গিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এপ্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল ইসলাম মুঠোফোনেতাজাখবরকে  বলেন, নিরাপদ খাদ্য ও নিরাপদ ওষুধ নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মুদি দোকানে খাবার সামগ্রীর পাশাপাশি কীটনাশক সামগ্রী এবং অনুমোদনহীন ফার্মেসীগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক/তাজাখবর/নজরুল ইসলাম দয়া

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন