নন্দীগ্রামে চোরাই ব্যাটারি পোড়ানো হচ্ছে, চারেদিকে বিষাক্ত গ্যাস

তাজা খবর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :: বগুড়ার নন্দীগ্রামে সিসা গলানোর অবৈধ কারখানার বিষাক্ত গ্যাসে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কারখানার রাসায়নিকে দূষণ ছড়াচ্ছে ফসলের ক্ষেতেও। অবৈধভাবে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

উপজেলার হাটকড়ই-দেওগ্রাম সড়কের ভূস্কুর গ্রামের বাজার পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের জায়গায় অনুমোদনহীন এ কারখানায় পোড়ানো হচ্ছে চোরাই ব্যাটারি -স্থানীয়রা এমন অভিযোগ করেছেন। নন্দনবাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিম এই অবৈধ কারখানা দেখাশোনা করে।

গত মঙ্গলবার রাতে সরেজমিনে গিয়ে ব্যাটারি পোড়ানোর কাযর্ক্রম দেখা গেছে। প্রতিদিন রাত ৮টার পর সিসা গলানোর কাজ শুরু হয়ে চলে ভোর পর্যন্ত।

এই অবৈধ কারখানার মালিক গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রঞ্জু ও আজাদুল। শুরুতে ভূস্কুর গ্রামের সচেতন লোকজন প্রতিবাদ করে বিপাকে পড়েছেন। যেকারণে প্রতিবাদ করতে কেউ এগিয়ে না আসায় বীরদর্পে চলছে সিসা গলানোর অবৈধ কারখানা।

জানা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রায় পাত গলানোর সময় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর যৌগ উৎপন্ন হয়। সিসা কারখানার নির্গত ধোঁয়া ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। এসব রাসায়নিকের কারণে ওই এলাকায় বসবাসকারীরা রয়েছেন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। ধোঁয়ার মাধ্যমে এসব পদার্থ চারদিকে প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। যা পরিবেশ, প্রতিবেশ, ফসল এবং মানবদেহের ক্ষতিসাধন করে থাকে। ফলে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষজন।

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা বলেন, আমরা দিনমজুর হিসেবে বেতনে কাজ করি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুরাতন ড্রাইসেল ব্যাটারি ও সিসাযুক্ত দ্রব্য সংগ্রহ করে এখানে পোড়ানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূস্কুর গ্রামের বাজারের দুই ব্যক্তি বলেন, ভয়াবহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি। গ্রামে অসাধু সিন্ডিকেট বেড়েছে। যারাই প্রতিবাদ করেছেন, তারা উল্টো বিপাকে পড়েছেন। অনেককেই মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেছেন সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ। নন্দনবাড়ি গ্রামের আব্দুল হালিম কারখানাটি দেখাশোনা করেন। দুই বছর ধরে চলছে অবৈধ কারখানা।

বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরাতন এবং চোরাই ব্যাটারি সংগ্রহ করে তা আগুনে গলিয়ে সিসা বের করা হয়। বিষাক্ত গ্যাসে এলাকায় অনেকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছে। সিসা গলানোর কারখানার আশপাশের ধানি জমি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। কমে গেছে ফলনও। পরিবেশ দূষণকারী অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধ করার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।

কারখানার মালিক গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জের রঞ্জু বলেন, সাবেক ইউপি সদস্য মাঝেমধ্যে ব্যাটারি পোড়ানো কাজ করতে বলেছেন। আমি কারখানায় থাকিনা, আব্দুল হালিম দেখাশোনা করে। চোরাই ব্যাটারি এখানে নেই, পরিত্যক্ত ব্যাটারির পাত গলিয়ে সিসা ও লোহা আলাদা করা হয়।

তবে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে। অসাধু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক/তাজাখবর/সাখাওয়াত হোসেন হানিফ

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন