কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে রিসোর্টের ৮তলা থেকে পড়ে মৃত্যু, পরিবারের দাবী হত্যা

তাজা খবর, জেলা করেসপন্ডেন্ট :: কক্সবাজারের কলাতলীস্থ সি ক্লাসিক রিসোর্টের ৮তলা থেকে পড়ে সোহাগ বাবু শেখের (১৯) মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে হত্যাকারীরা।

গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) সকালে কক্সবাজার থেকে টাঙ্গাইল নিজ বাড়িতে আনা হয় সোহাগের মরদেহ। এরপর শত শত নারী-পুরুষ এক নজর দেখতে আসে মৃত সোহাগকে। এ সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে পড়ে।
নিহত সোহাগ বাবু শেখ টাঙ্গাইল পৌর এলাকার ১৪নং ওয়ার্ডের মোনায়েম খান খানসুর ছোট ছেলে।
নিহতের বাবা মোনায়েম খান খানসুর বলেন, এটা আত্মহত্যা না। দ্বীপ আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই। এটা হত্যা না আত্মহত্যা একটি সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার চাই।
নিহতের ভাই নাছির বলেন, ঘটনার আগে আমার ভাই বাবু আমার বড় ভাইয়ের কাছে ৬‌‘শ টাকা চায়। সে বিকেলে দিতে চাইলে তাকে জরুরিভাবে পাঠাতে বলে। তা না হলে দ্বীপ তাকে মারবে বলে জানায়। কিন্তু টাকা পাঠানোর পরও বাবুকে মারধর করে। এটা আমরা পরে জানতে পারি। বাবু আরো বলেছিলো ওরা কেউ ফোন দিলে ওদের কথা না শুনতে। ওরা আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। এরপর ওর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়। তারপর আর কোনো যোগাযোগ করতে পারি নাই। পরে মঙ্গলবার রাতে আমরা খবর পাই ও নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমরা এটা বিশ্বাস করি না। দ্বীপ-ই আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তা না হলে ৮তলা থেকে কেউ পড়ে গেলে তার শরীরের অনেক হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার কথা। শরীরের অনেক অংশ থেতলে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার কিছুই হয়নি। শুধু বাবুর শরীলে আঘাতের অনেক চিহ্নও রয়েছে। দ্বীপ যদি এর সাথে জড়িত না থাকতো তাহলে ওর মা শাহিন আরা মিষ্টু কিভাবে ঘটনার পরেই সেখানে উপস্থিত হয়। আর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে। আর আমাদের জানায় রাতে। পরে আমার বাবা কক্সবাজার থানায় গিয়ে মামলা করতে চেয়েছিলো কিন্তু থানা পুলিশ কোন মামলা নেয়নি। পরে একটি সাধারণ অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে। ওরা প্রভাবশালী বলে সব জায়গা ম্যানেজ করেছে। এখন আমাদের কথা কেউ শুনবে না। আমার ভাইকে যারা হত্যা করছে তার বিচার চাই। তাদের সর্ব্বোচ শাস্তি দাবি করছি।
নিহতের ফুপু রানু সুলতানা বলেন, বাবু অনেক ভালো ছেলে ছিলো। ওর বাবার সাথে রং এর কাজ করতো। কয়েকদিন আগে এলাকার অনেকের সাথেই কক্সবাজার ঘুরতে যায়। আমরাই বাবুকে কিছু টাকা দিয়েছিলাম ঘুরতে যাওয়ার জন্য। ওর সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই। তাহলে কেন বাবুকে হত্যা করলো। আমরা এর বিচার চাই।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর শনিবার টাঙ্গাইল থেকে ১৪নং ওর্য়াড ছাত্রলীগ (আদালত পাড়া বয়েজ) এর আয়োজনে ৫২ জনের একটি দল কক্সবাজারে ভ্রমণে যায়। সেখানে কলাতলীস্থ সি ক্লাসিক রিসোর্ট হোটেলে ওঠে। সবাই যে যার মতো করে হোটেলে অবস্থান করেন। বাবু হোটেলের ৮০২ নম্বর রুমে ছিলো। হঠাৎ বাবু শেখ ৮তলা থেকে নিচে পড়ে যায় বলে খবর আসে। তখন সবাই তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তখন জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বাবুর দাফন সম্পন্ন করা হয়।

ডেস্ক/তাজাখবর/এনআর

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন