আহমেদ রিয়াজ কারাগারে, ঘটক আতিক এখনো অধরা

লিটন গাজী, তাজা খবর:: কথিত প্রবাসী সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ সহ প্রবাসীদের সহায়তার নামে প্রতারণা করে অবশেষে পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছেন আহমেদ রিয়াজ। গত বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয় দিয়ে নিজেকে প্রচার করতেন আহমেদ রিয়াজ।

বৃহস্পতিবার দলটির দপ্তর জানায়, সে জাতীয় পার্টির কেউ নন। সিলেট কোতোয়ালি থানার মামলায় আহমেদ রিয়াজকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেছেন আদালত। তবে আত্মগোপনে রয়েছেন কথিত মানবাধিকার চেয়ারম্যান পরিচয়ধারী আতিকুর রহমান। পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ছোটশিবেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান @ ঘটক আতিক গলাচিপা থানার অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি।

অভিযোগ উঠেছে, গলাচিপা থানার ওসির সাথে সখ্যতা সহ রহস্যজনক কারণে আতিকুর এখনো অধরা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ পরিবারের লোক পরিচয়ে রাজধানীতে কথিত মানবাধিকার সংগঠনের চেয়ারম্যান পরিচয়ধারীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। সাংবাদিক সংগঠনের নামে বখরাবাজ ব্যক্তিরা ফায়দা লুটছে। এ যেন ভুয়াতে ছড়াছড়ি! কেউ কেউ নামমাত্র নামের ছাড়পত্রের আবেদন করলেও অনেকেরই নেই সরকারি বৈধতা।

আবেদন নম্বরকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলছে প্রতারণার মহোৎসব। বিষয়টি প্রশাসনকে দফায় দফায় অবহিত করা হলেও রহস্যজনকভাবে হস্তক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি মানবাধিকার সংগঠনের নামে প্রতারক সিন্ডিকেটের সন্ধান পায় দৈনিক পুনরুথ্থান ও তাজা খবর।

ঘটক আতিকের নেতৃত্বে ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনের নানা প্রতারণার তথ্য পাওয়া যায়। গুগলে ‘ডিজিটাল প্রতারক আতিকুর’ লিখে সার্চ করলেই নানা অপকর্ম প্রকাশ পায়। তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রী পরিবারের লোক পরিচয়ে রাজধানীর মিরপুর ১০ বুশরা ক্লিনিকের ৫ম তলায় কম্পিউটার ব্যবসার আড়ালে চলছে প্রতারক সিন্ডিকেট। এই চক্রের বিরুদ্ধে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের ছবি পোস্ট করে নানাভাবে অপপ্রচার করে আতিকুর রহমান। ফেসবুক লাইভে এসেই হুমকি দেয়।

ঘটক আতিক নিজেকে মানবাধিকার চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন থানার পুলিশ কর্তাদের ফোন করেও সুবিধা নেয় বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজধানীর কদমতলী, তুরাগ, মিরপুর মডেল থানা সহ সারাদেশের বিভিন্ন থানায় অসংখ্য জিডি রয়েছে। গলাচিপা থানায় অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা সহ নওগাঁর আদালতে রয়েছে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টার পৃথক মামলা। আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ সহ মিরপুর র‌্যাব কার্যালয়ে চুয়াডাঙ্গার এক প্রতারিত ব্যক্তি অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সিন্ডিকেটের আরেকজন কথিত প্রবাসী নেতা আহমেদ রিয়াজ। প্রবাসী হলেও মাঝেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সামনে থেকে ফেসবুকে লাইভ করতে দেখা যায়। প্রবাসীদের সহায়তার নামে বিভিন্ন প্রলোভন দেন। প্রবাসী সংগঠনের সদস্য ও বিদেশে শ্রমিক নেওয়ার প্রলোভন দিয়ে অনেকের কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আহমেদ রিয়াজ নিজেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে প্রচার করলেও দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক-২ এমএ রাজ্জাক খান বলেন, আহমেদ রিয়াজ জাতীয় পার্টির কেউ নন। গত সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসন থেকে মোমবাতি মার্কায় নির্বাচন করেছে। অথচ সে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন গণমাধ্যম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে সংবাদ প্রচার করেছে, যা দুঃখজনক।

বড়লেখা থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার জানান, আহমেদ রিয়াজের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আদালতের একটি মামলার দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানা জারি ছিল। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)- ৪ মিরপুরের অধিনায়ক এডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতারক সিন্ডিকেট ধরতে র‌্যাব সদস্যরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন