‘মানুষ আপনাকে মনে রাখবে সৈয়দ আশরাফ ভাই’

তাজা খবর, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল রবিবার (৩ জানুয়ারি)। ২০১৯ সালের এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন দেশের জনপ্রিয় এই নেতা। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ক্ষমতাসীন দলটি বা এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষে ছিল না কোনো কর্মসূচি।

তবে সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুবার্ষিকীতে কিশোরগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

দলীয়ভাবে কর্মসূচি না থাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীরা ভীষণ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। সাধারণ কর্মীদের মতো ক্ষোভ কেন্দ্রীয় অনেক নেতার কণ্ঠেও ঝরেছে। ক্ষুব্ধ কোনো নেতাই প্রকাশ্যে তাদের ক্ষোভের কথা জানাতে চাননি।

দলে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের অসামান্য অবদান এবং ব্যক্তিজীবনে তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কথা তুলে ধরে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন দলের অসংখ্য নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি)  কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার নীলগঞ্জ মিলনগঞ্জ বাজারে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করেন মাইজখাপন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (সাবেক) মাহবুবুর রহমান মাহাবুব। তিনি মাইজখাপন ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। 

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা কৃষকলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল করিম দুলাল ভুইয়া, মাইজখাপন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক উজ্জ্বল, ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিকিরুল হাকিম ধনু সহ নেতাকর্মীরা। 

‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিঃসন্দেহে একজন জ্ঞানী-গুণী-জনপ্রিয় ও বলিষ্ঠ নেতা উল্লেখ করেন নেতাকর্মীরা। তাঁকে স্মরণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান মাহাবুব বলেন, ‘মানুষ আপনাকে মনে রাখবে সৈয়দ আশরাফ ভাই’। 

২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর সৈয়দ আশরাফ যুক্তরাজ্য চলে যান।  প্রবাসজীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি এক কন্যার জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

ডেস্ক/তাজাখবর/এনআর

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন