‌‌’বিএনপির ৭ মার্চের কর্মসূচি ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়’

তাজা খবর রিপোর্ট: স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ৭ মার্চ উপলক্ষে বিএনপি যে কর্মসূচি দিয়েছে তা লোক দেখানো বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে নিষিদ্ধ করে বিএনপি এখন ৭ মার্চ পালন করছে, যা ভন্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।

তিনি বলেন, দেশ যখন সমৃদ্ধির পথেতখন একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। দেশে-বিদেশে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন থেকে সড়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

শনিবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সাথে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের এক যৌথসভায় ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজশাহীর সমাবেশে বিএনপির এক নেতা আরেকটি ১৫ আগষ্ট ঘটানোর কথা বলেছেন। আমাদের কাছে এটা বোধগম্য নয় যে, এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য ঐ নেতার ব্যক্তিগত নাকি বিএনপির দলীয় অবস্থান? গত ৪-৫ দিনে বিএনপির ঐ নেতার বক্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত অফিসিয়াল কোনো ব্যাখা প্রদান না করে, প্রমাণ করেছে এটি তাদের দলগত অবস্থান। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ঐতিহাসিক এই ক্ষণে তারা এখনো হত্যা-ক্যু ও ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের রাজনীতিতে ব্যস্ত।

মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর কর্মসূচিও ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সারাদেশে সাংগঠনিক ইউনিট জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। সারাদেশে দলীয় কার্যালয়ন সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন, সড়ক-মহাসড়ক আলোকসজ্জা করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনকর্ম ও স্বাধীনতার সংগ্রামের উপর, আলোচনা সভা প্রকাশ গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন এবং ভিজুয়াল ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

কর্মসূচির মধ্যে আরও রয়েছে, সারাদেশে সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রচার সভা-সমাবেশ ও র‍্যালীর আয়োজন করা হবে। মুজিব বর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বাংলাদেশে আমন্ত্রিত বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতে অনুষ্ঠিতব্য সরকারি কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন ধরণের উপযোগী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, ২৬ শে মার্চ ২০২১ থেকে পরবর্তী ২৬ শে মার্চ ২০২২ পর্যন্ত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সাথে সঙ্গতি রেখে ২৬ শে মার্চের কর্মসূচি নেয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সাড়ে তিন বছরের শাসন আমলে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ভিত গড়ে দিয়েছেন। জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৭৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশকে স্বৈরশাসন ও দেশবিরোধী অপশাসনে পিষ্ট হতে হয়েছে। দেশকে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের কাতারে দাঁড় করিয়েছে। আর জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সেখান থেকে তুলে উন্নত দেশের কাতারে যুক্ত করছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দীর্ঘ প্রতিবন্ধকতা ও বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে বাংলাদেশ সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে। তার সুনিপুণ পরিকল্পনা ও সুদক্ষ নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যেই উন্নত দেশের কাতারে সামিল হতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতির পিতার কন্যার সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে তখনই একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’

যৌথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বিএম মোজাম্মেল হক, আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও সায়েম খান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ নেতারা।

তাজা খবর/রাশেদুল ইসলাম রিপন

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন