ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে

তাজা খবর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: সাত দিন লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি বা সোনালী মুরগির দাম কমেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কমেছে সোনালী মুরগির দাম। একদিনের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম কেজিতে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, লকডাউনের খবরে শনিবার ও রবিবার ক্রেতারা বাড়তি কেনাকাটা করেছেন। এখন বাজারে ক্রেতার চাপ কমে গেছে। এ কারণে দাম কমেছে।

তাদের দাবি, দাম কমলেও এখন মুরগির বিক্রি কম। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে মুরগির দাম আরও কমতে পারে। আর এমনটি হলে খুচরা ব্যবসায়ীরা লোকসানের মধ্যে পড়বেন। ইতোমধ্যে কোনো কোনো ব্যবসায়ী লোকসান গুনছেন।

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (সোমবার) সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হয় ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা। তবে আজ বেশিরভাগ দোকানে সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকায়। তবে যারা আগে কিনে রেখেছেন তারা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দাম চাচ্ছেন।

অন্যদিকে ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। তবে লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের মতো এই মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

রামপুরা মোল্লাবাড়ির মুরগি ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, পাইকারিতে আজ সোনালী মুরগির দাম অনেক কমে গেছে। যে কারণে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারছি। গতকাল সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ৩৬০ টাকা। আজ সোনালী মুরগি ছোটগুলো ২৪০ টাকা এবং বড়গুলো ২৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আজ দাম কমলেও বিক্রি নেই। এর কারণ দুইদিনে মানুষ অনেক কেনাকাটা করেছে। তাছাড়া লকডাউনের মেয়াদ বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে মানুষের মধ্যে। এসব কারণেই বিক্রি কমে গেছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মুরগির দাম আরও কমে যাবে।

এ ব্যবসায়ী থেকে একশ গজ দূরেই মুরগি বিক্রি করা হানিফ আলী সোনালী মুরগির দাম চাচ্ছেন ৩০০ টাকা কেজি। বাড়তি দাম চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে এই ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মুরগি দুই দিন আগে কেনা। প্রতি কেজি মুরগি ৩০০ টাকার ওপরে কেনা পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত ৩৬০ টাকা কেজি বিক্রি করেছি। আজ পাইকারিতে দাম কমে যাওয়ায় লোকসান দিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। সকাল থেকে দুটি মুরগি বিক্রি করেছি ২৮০ টাকা কেজি।’

রামপুরা বাজারে ১৫০ টাকা কেজি ব্রয়লার ও ২৬০ টাকা কেজি সোনালী মুরগি বিক্রি করা আরিফ বলেন, ‘সোনালী মুরগি ‘সস্তা’ হয়ে গেছে। ৩৬০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায় চলে এসেছে। এরপরও বিক্রি কম। বিকালের পর দোকানও খোলা রাখা যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে আমরা বিপাকে আছি।’

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল বলেন, ‘মুরগির দাম কমে গেছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে সামনে দাম আরও কমবে। কারণ সাড়ে তিনশ টাকার সোনালী মুরগি এখন ২৪০ টাকা বিক্রি হলেও ক্রেতা কম। ১৬০ টাকার বয়লার মুরগি এখন ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে লকডাউন না থাকলে রোজার আগে মুরগির দাম বাড়তে পারে।’

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, ‘সোনালী মুরগির দাম এভাবে কমবে আমরা ধারণাও করতে পারিনি। চাহিদা কমার কারণে এভাবে দাম কমে গেছে। আর সোনালী মুরগির দাম কমার কারণে ব্রয়লার মুরগির দামও কমেছে। তবে লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আমাদের ধারণা লেয়ার মুরগির দামও কমে যাবে। কারণ আড়াইশ টাকায় সোনালী মুরগি বিক্রি হলে দুইশ টাকা দিয়ে কে লেয়ার মুরগি কিনবে?’

যাত্রাবাড়ীর মুরগি ব্যবসায়ী লিটন শেখ বলেন, ‘এবার মুরগিতে বড় ‘ধরা’ খেয়েছি। কেজিতে একশ টাকা নেই হয়ে গেছে। তিনশ টাকার ওপরে কেনা সোনালী মুরগি এখন আড়াইশ টাকা বিক্রি করছি। অথচ গতকালও সাড়ে তিনশ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।’

তিনি বলেন, বাজারে এখন প্রতিযোগিতা অনেক। আজ যারা মুরগি কিনেছেন তারা সোনালী মুরগি আকার ভেদে ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন। প্রতিযোগিতায় টিকতে এখন লোকসানে মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। কারণ ক্রেতা যেখানে দাম কম পাবে, সেখানে চলে যাবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন