সচেতনতাই আপনি বাঁচবেন

মু. সায়েম আহমাদ :: আমাদের দেশে এখনো মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাস নিয়ে উদাসীনতা। তাদের মাঝে নেই কোনো সচেতনতা। শহরাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় মানুষের জনসমাগম। প্রয়োজনে হোক অপ্রয়োজনে হোক একে অপরের সঙ্গে নির্দ্বিধায় চলাফেরা করছে অনবরত। মানছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষদের মাঝে সচেতনতা নেই বললেই চলে। গ্রাম্য হাট বাজারে গেলে বুঝা যায় তাদের কি পরিস্থিতি। মুখে মাস্কের ব্যবহার নেই, স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োগ নেই। শুধু কি এটাই? বরং বিভিন্ন শপিংমল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ উদাসীনতা মনোভাব নিয়ে চলাফেরা করছে। যে যেভাবে পারছে সে সেভাবেই নিজের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সুতরাং এসব বিষয়ে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে ভাবতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। প্রয়োজনে বাইরে গেলে সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ফেরা করতে হবে। মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। আর সেটা যেন সর্বস্তরে বাধ্যতামূলক হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার বারবার ব্যবহার করতে হবে। যাতে করে ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায় নিমিষে। প্রত্যেক নাগরিককে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল-ফলাদিসহ ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। যার ফলে আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের দেশের সরকারকে সময় থাকতে করোনা মোকাবিলায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সরকার যে লকডাউন দিয়েছে তা যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে যারা দিনমজুরি বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য তাদের সঠিক তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে। যদিও লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য সাড়ে ৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে সরকার। সেই বাজেট সুষ্ঠুভাবে যেন বণ্টন করা হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের মনে কোনো ধরনের ভয় আর আতঙ্ক থাকা যাবে না। বরং আত্মবিশ্বাসী বা মনোবল ঠিক রাখতে হবে। সেই সঙ্গে অধিক সচেতন হতে হবে আমাদের। কারণ সচেতনতাই পারে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে। নয়তো দিন শেষে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির মতো শিকার হতে হবে আমাদেরও। কাজেই সময় থাকতে সচেতন হোন এবং দেশের মঙ্গল কামনা করুন।

মু. সায়েম আহমাদ : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।
sayemahmad2019@gmail.com

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন