জীবন-জীবিকা যেন স্তব্ধ না হয়

এমএইচ খান মঞ্জু  :: ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে সাত দিনের সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহণ। সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ। তবে খোলা রয়েছে ব্যাংক ও উৎপাদনশীল খাতের কলকারখানা। সরকার কলকারখানা চালু রাখায় শুধু অর্থনীতি নয়, স্বাস্থ্য খাতও মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে। শুধু গার্মেন্ট খাত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলে ৪০ লাখ শ্রমিক ‘লকডাউন’ কাটাতে ছুটে যেত গ্রামের দিকে। এতে স্বাস্থ্যবিধির বারোটা বাজত।

আমাদের সবচেয়ে ব্যর্থতা আমরা মানুষকে সচেতন করতে পারিনি। এখনও মাস্ক পরিধান এবং বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া- এ দুটি অবশ্য পালনীয় কাজেও অবহেলা করেছে মানুষ। সামাজিক দূরত্ব যথাসম্ভব বজায় রেখে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বারবার। কিন্তু মানুষ যেভাবে ঘরের বাইরে হাটে-ঘাটে-মাঠে এবং সড়কে বিচরণ করেছে, তাতে মনেই হয়নি বিশ্বে মহামারি চলছে এবং বাংলাদেশও বড় ঝুঁকির ভেতর রয়েছে।

বর্তমানে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে রেকর্ডসংখ্যক মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোয় ভারতীয় ধরনের ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটছে দ্রুত। দেশে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বাড়ছে। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে চাই সর্বাত্মক প্রতিরোধ। আর তাই শুরু হওয়া লকডাউনের শতভাগ সফলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এক্ষেত্রে প্রশাসনের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি প্রত্যেক নাগরিকেরও করণীয় রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, এ দেশের মানুষ প্রমাণ করবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে তারা অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম। মহামারি কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, তা আমরা দেখেছি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। সেখানে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

ভারতে এমন ভয়াবহ সংক্রমণের জন্য দায়ী যে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট, তা বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথমে এটি ছিল প্রধানত সীমান্ত এলাকায়। এখন রাজধানীসহ সারা দেশেই এর বিস্তার ঘটছে। তাই আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতিও ভারতের মতো ভয়াবহ হতে পারে, যদি না কঠোরভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই কঠোর লকডাউন দেওয়া হচ্ছে।

মানুষের উচিত লকডাউন মেনে চলা। একই সঙ্গে টিকা প্রদানের হার বাড়ানোও জরুরি। গণটিকাদান কর্মসূচি আবার শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, টিকাও শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারছে না। টিকা দেওয়ার পরও অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ যাতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মানুষের মধ্যে অসচেতনতা এখনো অনেক বেশি। লকডাউনের খবর শুনেই একদল মানুষ দলে দলে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। সামাজিক দূরত্ব মানা তো দূরের কথা, অনেকে মাস্কও পরে না। এর মধ্যে কাছে চলে এসেছে কোরবানির ঈদ। আবারও দলে দলে মানুষ ঢাকা ছাড়বে। কয়েক দিনের মধ্যেই স্থানে স্থানে গরুর হাট বসতে শুরু করবে। তাই সেই পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেওয়া হবে তার পরিকল্পনা এখন থেকেই করতে হবে। যেভাবেই হোক, মহামারির ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতেই হবে।

সাবেক সংসদ সদস্য; সাবেক প্রিন্সিপাল, এম এইচ খান ডিগ্রি কলেজ, গোপালগঞ্জ

যুগান্তর

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন