অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণ ও স্বামীকে বলাৎকার করে ভিডিও ধারণ (!)

তাজা খবর করেসপন্ডেন্ট :: পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও স্বামীকে বলাৎকার করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবির ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় ৪ আসামিকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

সোমবার (১২ জুলাই) বিকেলে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় ৩ জনের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে ও ১ জনের নামে নারী শিশু নির্যাতন আইনে (ধর্ষণ) দুটি মামলা দায়ের করেছে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী।

এদিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষা শেষে হাসাপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় আটক আসামিরা হলেন, জগদল দক্ষিণ গোয়ালপাড়া এলাকার ধর্ষক জয়নুল হক (২৫), রনি ইসলাম (২৪), নুর হোসেন (২১) এবং শাহিন হোসেন (২১)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে চা বাগানের চা পাতা কাটার কথা বলে ওই গৃহবধূর স্বামীকে ডেকে নিয়ে যায় একই এলাকার জয়নুল, রনি, নুর হোসেন ও শাহিন নামে যুবক। পরে তারা চা বাগানের কাছে গেলে ওই গৃহবধূর স্বামীর পরনের লুঙ্গিসহ কাপড়-চোপড় খুলে নিয়ে উলঙ্গ করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ওই চারজন।

টাকা না দিলে এলাকায় ও ইন্টারনেটে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।

ওই গৃহবধূর স্বামী টাকা দিতে অস্বীকার করলে জয়নুল, রনি, নূর হোসেন ও শাহীন একে একে তাকে বলাৎকার করে। পরে জয়নুল ভূক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভিতরে প্রবেশ কিছু টাকা পয়সা লুটপাট করে। পরে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ চেতন হলে তাকে বিভিন্ন রকম ভয় ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় জয়নুল।

সকালে পরিবারের লোকজন ভূক্তভোগীকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে বাড়ি থেকে বেশকিছু দূরে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদেরকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন।

এদিকে ওই অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূও ধর্ষণের বিষয়টি তার স্বামীকে জানায়। পরে স্থানীয়রা ওই ৪ যুবককে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহম্মেদ জানান, এ ঘটনায় ওই চারজনের বিরুদ্ধে সদর থানায় নুর হোসেন, রনি ও শাহিন নামে তিন যুবকের নামে পর্নোগ্রাফি আইনে ও জয়নুলের নামে নারী শিশু নির্যাতন আইনে (ধর্ষণ) দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন