রানা বর্তমানের বিরুদ্ধে ‘রাগী’ সিনেমার ফুটেজ ফাঁসের অভিযোগ

তাজা খবর, আকাশ নিবির :: আস্থা কথচিত্র’র ব্যানারে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন সিনেমা ‘রাগী’র গুরুত্বপূর্ণ গানের ফুটেজ পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই ফেসবুক পেজে প্রচার করেছে রানা বর্তমান নামের এক ব্যক্তি। এতে ব্যবসায়ীক ক্ষতির শঙ্কায় রানা বর্তমানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান।

অভিযোগে উল্লেখ করেন, আস্থা কথচিত্র’র ব্যানারে ‘রাগী’ নামের একটি পুর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত এবং সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে সিনেপাড়ার দুর্দিনে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই নতুন সিনেমা নির্মিত হয়। সম্প্রতি পরিচালক এবং প্রযোজনা সংস্থার অনুমতি ছাড়াই রানা বর্তমান নামের ব্যক্তি তার নিজ ফেসবুক পেজে সিনেমা ‘রাগী’র গুরুত্বপূর্ণ গানের ফুটেজ ফাঁস করে।

‘রাগী’ চলচ্চিত্রের অসংখ্য ফুটেজ ইউটিউবসহ একাধিক ফেসবুক আইডি এবং পেজে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে ব্যবসায়ীক ক্ষতির শঙ্কায় রয়েছেন নির্মাতা।

 

ফুটেজ ফাঁসের ঘটনায় তেঁজগাও শিল্পাঞ্চল থানায় অভিযোগ করেছেন প্রযোজক জাকিয়া খাতুন জয়া। তিনি তাজাখবরকে বলেন, আস্থা কথাচিত্রের প্রথম অবদান ‘রাগী’ চলচ্চিত্র। দীর্ঘ করোনা মহামারীর কারণে চলচ্চিত্রটি বেশ কষ্টে নির্মিত হয়েছে। একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে কোটি টাকার বেশি খরচ করি। চলচ্চিত্রের ফুটেজ নিয়ে ফেসবুক-ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়ায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান তাজাখবরকে বলেন, নতুন চলচ্চিত্রের জন্য বাসায় স্ক্রীপ্ট লেখার সময় একজন মুঠোফোনে জানান, রানা বর্তমান নামের একটি পেজ থেকে আমাদের ‘রাগী’ চলচ্চিত্রের মূল গানের ফুটেজ ছেড়ে দিয়েছেন। যেখানে নায়ক-নায়িকার সম্পূর্ণ লুক প্রকাশ করেছে।

পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, আমার ধারণা, তার কাছে আমার পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে দাবি করে রানা বর্তমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অপূর্ব রানা বলেন, পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান আমাদের পূনাঙ্গ সদস্য। অন্যদিকে রানা বর্তমানের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ রয়েছে। আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অপূর্ব রানা।

উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম হয়ে উঠেছে বিনোদনের অন্যতম উৎস। বর্তমানে সিনেমা হল ও টিভি নাটকের জায়গা দখল করে নিচ্ছে বিভিন্ন ওয়েব পোর্টাল, ইউটিউব চ্যানেল এবং ফেসবুক পেজ। যেহেতু খুব সহজেই ইউটিউব ও ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করা যায় ফলে প্রায় সব শ্রেণির মানুষ এখানে নিজেদের বিনোদনমূলক ভিডিও পোস্ট করছে। নেটি ইনকামের স্বার্থে কেউ কেউ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে আপলোড করছেন। চলচ্চিত্র মুক্তির আগেই ফুটেজ ফাঁস হওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নির্মাতারা।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন