নন্দীগ্রামে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সেই ২০ শয্যা হাসপাতালে রোগী দেখার ব্যবস্থা

তাজা খবর করেসপন্ডেন্ট :: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির অভাবসহ নাজুক অবস্থায় ছিল বগুড়ার নন্দীগ্রাম ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল। নজরদারি না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছিলো।

দীর্ঘ ১৫ বছর পর অবশেষে নন্দীগ্রাম সদরের ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন চিকিৎসক। দিন দিন বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ সরঞ্জামাদি প্রদান করেছেন। হাসপাতাল চত্বরে জামে মসজিদ নির্মাণের জন্য ৯০ হাজার টাকা দিয়েছেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, ডাক্তার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটি এখন পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে। সেখানে নিয়মিত বর্হি:বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছে। সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিফা নুসরাত, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম, পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান, থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, ভাইস চেয়ারম্যান দুলাল চন্দ্র মহন্ত, শ্রাবণী আকতার বানু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন, কৃষি অফিসার আদনান বাবু, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আবু তাহের, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

সুত্রমতে, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে বিজরুল বাজারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। শাজাহানপুর উপজেলা সীমান্তের এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করেনা। সিএনজি, নসিমন এবং অটোভানেই ভরসা। রাত ৮টার পর সেই যানবাহনও চলাচল করেনা। ফলে তাৎক্ষণিক রোগী নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়না বলে মন্তব্য করেন পৌর সদরের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থ-বছরে পৌর শহরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্বাবধানে (নির্মাণ ও রক্ষাবেক্ষন ইউনিট-সিএমএমইউ) হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ সহ আনুসাঙ্গিক খাতে ব্যায় হয় ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন এবং নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

২০০৫ সালে এর অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেয়ায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ছাড়াই ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহুর্তে তড়িঘরি করে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক সাংসদ ডা: জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছরেও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি। ফলে হাসপাতালের বিশাল ক্যাম্পাস জুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন গাছ-জঙ্গল গজায়। আবাসিক ভবনগুলো নষ্ঠ হচ্ছিল। ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমে যায়। ঘুনপোঁকা ভবনের দরজা-জানালায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়ছে দরজা জানালার কপাট।

বর্হিবিভাগ চালু থাকলেও তা চলছিলো মন্তর গতিতে। এখন সেখানে নিয়মিত বর্হি:বিভাগে রোগী দেখা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল বলেন, পৌর সদরের ২০ শয্যা হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধির জন্য উপজেলা প্রশাসনসহ সবাইকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। বর্তমানে বর্হি:বিভাগ চালু রয়েছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় আউটডোরও চালু হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন