বগুড়ার সাদা সেমাই, দেশজুড়ে চাহিদা

তাজা খবর করেসপন্ডেন্ট :: পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বগুড়ার সেমাই তৈরি কারিগরদের ব্যস্ত বেড়েছে। বগুড়ায় এ সেমাইয়ের চাহিদা থাকায় প্রতি বছর বড় অংকের ব্যবসা করে নেন এখানকার ব্যবসায়িরা। ঈদে সাদা সেমাইয়ের প্রচুর চাহিদা থাকে বলে দিন-রাত চলছে সেমাই বানানোর কাজ।

বগুড়ার তৈরি সাদা সেমাই নওগাঁ, নাটোর, ঢাকা, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, সিলেটসহ সারাদেশেই খ্যাতি ও চাহিদা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়া শহরের বেজোড়া শ্যামলাকাঁথি পাড়ার সেমাই কারখানায় রোদে সেমাই শুকানোর কাজ করছেন রাশেদা, শিউলি, গোলাপী ও জমেলা বেগমের মত অনেকেই। কেউ তীব্র রোদে চটের বস্তার ওপর সেমাই একটার পর একটা চাকা শুকাচ্ছেন। কেউ আবার শুকানো সেমাই বাঁশের টোপায় করে বিক্রির জন্য বাঁধাই করছেন।

ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন, এ জেলার কমপক্ষে তিনশ কারখানায় সাদা চিকন ময়দার সেমাই তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কারখানা রয়েছে বগুড়া শহরের মাদলা, বেজোড়া, ঢাকন্তা, বনানী, সুলতানগঞ্জপাড়া, চেলোপাড়া, শ্যামলাকাঁথি, নারুলী, নুরানী মোড় ও বৃন্দাবনপাড়ায়। অনেকে কারখানার পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে সেমাই তৈরি ও প্যাকেটজাত করছেন। আর এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ভাগই মৌসুমি ব্যবসায়িরা বড় অংকের টাকা আয় করেন।

দুই ধরনের সাদা সেমাইয়ের মধ্যে একটি চিকন আর অন্যটি সামান্য মোটা। বগুড়াসহ আশেপাশের বাজারে এই দুই ধরনের সেমাই এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ বছর ময়দার দাম বেশি হওয়ায় খুব বেশি লাভ হবে না ব্যবসায়িদের।

তবে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছেন পাইকারি ব্যবসায়িরা। প্রতি কেজি সেমাই ৫৫-৬০ টাকা আর সাদা সেমাই ভেজে প্যাকেট আকারে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজি দরে।

বগুড়া শহরের বে-জোড়ার সেমাই কারিগর রাশেদা বেগম জানান, ‘সব সময় এই সেমাইয়ের কাজ হয় না। রোজার শুরুর দিকে সেমাই তৈরির কাজ শুরু হয়। এক বস্তা ময়দার সেমাই তৈরি করে মজুরি হিসেবে একশত টাকা পাই। তবে, রোদ না থাকলে কাজ বন্ধ থাকে।’

একই সেমাই করাখানার কারিগর শিউলি বেগম জানান, ‘সংসারের কাজ করার পর যে সময়টুকু বসে থাকি ততক্ষণ সেমাইয়ের কাজ করি। আর এখান থেকে যা মজুরি পাই সংসারে একটু সহযোগিতা হয়।’

বগুড়া শহরের এনএসকে ফুড এন্ড কনজ্যুমার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেল জানান, তারা সাদা সেমাই ও লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে উত্তরাঞ্চলের সব জেলায় সরবরাহ করছেন। সময়মতো কারিগর পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলে বেশি দামে শ্রমিক রাখতে হয়। ময়দার দাম বেড়েছে। রোদ না থাকলে সাদা সেমাই শুকানো যায় না। এর সঙ্গে যোগ দিয়েছে লোডশেডিং। এসব কারণেই সাদা সেমাইয়ের দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের আগে সেমাইয়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এ সময় শ্রমিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে অর্ডার পরিপূর্ণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

শহরের বে-জোড়া শ্যামলাকাঁথি গ্রামের সেমাই কারখানার মালিক আব্দুর রশীদ বলেন, ঈদের আগে সাদা সেমাইয়ের চাহিদা বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসেন সাদা সেমাই নিতে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পার্সেল করে পাঠাতে হয়। চলতি বছর ২৫ কেজি ওজনের এক খাচি সেমাই বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা করে। ভালোমানের সেমাই পাইকারি বাজারে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা কেজি দাম পড়ছে। আর খুচরা বাজারে ভালো মানের সাদা সেমাই দাম পড়বে ৬০ টাকা কেজি।

তাজা খবর/এস/ফাহিম/মিরাজ

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন