শ্রমিক সংকটে জমিতেই নষ্ট হচ্ছে ধান, বিপাকে চাষিরা

তাজা খবর করেসপন্ডেন্ট :: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো পাকা ও আধা পাকা ধান কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির পানিতে নুয়ে পড়ায় আশানারুপ ফলন হচ্ছেনা। পাকা ধান কাটতে না পেরে জমিতেই ধানে পচন ও ধানে চারা গজাচ্ছে। এ অবস্থায় ইরি-বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

অল্প সংখ্যক শ্রমিক মিললেও ধান কাটতেই গুনতে হচ্ছে কয়েক গুন বেশি মজুরি। প্রতিবিঘা জমির ধান কাটা, বহন ও মাড়াই করতে ৬হাজার থেকে ৭হাজার টাকাতেও মিলছেনা কৃষি শ্রমিক। তাই এখন প্রতি কৃষকের মুখেই শোনা যাচ্ছে প্রবাদবাক্য “লাভের ভাগ টিয়া-এ খায় হাওদ্যা হাওদ্যা পরাণ যায়”।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে আদমদীঘি উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন মিলে ১২হাজার ৪শত হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করা হয়। এরমধ্যে জিরাশাইল, ব্রি-২৮,২৯, উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানসহ বেশ কয়েক জাতের ধান চাষ করেন কৃষকরা। বৈশাখ মাসের প্রথম থেকেই উপজেলায় মাঝে মধ্যেই কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্ঠিপাতের কারনে অনেক কৃষক তড়িঘড়ি করে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন।

ঝড় বৃষ্টিতে পাকা ও আধা পাকা ধান মাটিতে নুয়ে পড়ে ধান গাছে পচন ও ধানে চারা গজাতে শুর করেছে। অনেকেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আতংকে আধাপাকা ধান কাটছেন। কিন্তু তারা সমস্যায় পড়ছেন শ্রমিক সংকটে। বাস কিংবা ট্রেন যোগে কিছু কৃষি শ্রমিক এলাকায় আসলেই তাদের নিতে কৃষকরা টানা হেচরা করছেন।

তেঁতুলিয়া গ্রামের কৃষক এনামুল হক, আমইল গ্রামের জাহাঙ্গীর বাবলু মিয়া, বেজার গ্রামের মোহাম্মাদ আলীসহ অনেকে কৃষক জানায়, বর্তমানে শ্রমিককে ধানকাটা বহন ও মাড়াই বাবদ প্রতি বিঘা জমির জন্য ৬ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তবুও মিলছে না শ্রমিক। এই আবাদে রাসায়নিক সার, সেচ, কীটনাশক, পরিচর্যাসহ নানা বাবদ বেশি খরচ হলেও ধানের ফলন বেশি হওয়ার আশা করেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু ধান কাটা মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বেশি লাগার কারণে ‘লাভের ভাগ টিয়া-এ খায়, হাওদ্যা হাওদ্যা পরাণ যায়’ এমনই অবস্থা হয়েছে এখানকার কৃষককুলের।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী জানান, কৃষি শ্রমিক নিরসনে শ্রমিক নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। অচিরেই শ্রমিক সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

সংবাদটি শেয়ার এবং লাইক করুন